Pallab's Site
Md Ashfaqur Rahman Pallab
Home
AboutExpand About
Blog
ServicesExpand Services
Albums
Guestbook
Contact

Add server-side Click, DoubleClick events to ASP.NET controls.


clock February 1, 2010 08:11 by author Pallab

This article demonstrates C# and VB.NET codes to execute server-side click and double-click events on ASP.NET controls like TextBox, ListBox, DropDownList etc.


Adding Click event to TextBox

Please go through the following instruction:

1. Add a TextBox control to the aspx page. You don't need to add any special code to it. The following code shows a sample TextBox added to aspx page:

        
        <asp:Label ID="lblTitle" runat="server" 
            Text="Click on following Text Box:"></asp:Label>
        <br />
        <br />
        <asp:TextBox ID="txtText" runat="server"></asp:TextBox>

2. In the codebehind file of the aspx page, enter the following code:

C#
protected void Page_Load(object sender, EventArgs e)
    {
        //Add Click event to Textbox
        if (Request["__EVENTARGUMENT"] != null && Request["__EVENTARGUMENT"] == "txtOnClick")
        {
            txtText_Click();
        }
        txtText.Attributes.Add("onclick", this.Page.ClientScript.GetPostBackEventReference(txtText, "txtOnClick"));

    }

    //Click Event Function
    private void txtText_Click()
    {
        //Write down any code here that you want to execute while Click even on TextBox fires
        txtText.Text = "You clicked me";
    }

VB.NET

Protected Sub Page_Load(ByVal sender As Object, ByVal e As System.EventArgs) Handles Me.Load
        'Add Click event to Textbox
        If (Not IsDBNull(Request("__EVENTARGUMENT"))) And Request("__EVENTARGUMENT") = "txtOnClick" Then

            txtText_Click()
        End If


        txtText.Attributes.Add("onclick", Page.ClientScript.GetPostBackEventReference(txtText, "txtOnClick"))
    End Sub


    'Click Event Function
    Private Sub txtText_Click()
        'Write down any code here that you want to execute while Click even on TextBox fires
        txtText.Text = "You clicked me"
    End Sub



নাসিকা গর্জন


clock October 5, 2009 11:40 by author Pallab

আমরা বাঙ্গালী জাতি নাকি যতো গর্জাই ততোটা বর্ষাই না। যদিও গর্জনেই যদি কাজ হাসিল হয়ে যায়, তাহলে বর্ষানোরই বা দরকার কি তা আমার ক্ষুদ্র মস্তিষ্কে তেমন একটা বোধগম্য হয় না। এ নিয়ে অবশ্য খুব একটা মাথা ঘামাতেও আমি রাজি না। গুণীজনেরা যা বলেন তা বিনা বাক্যব্যায়ে মেনে নিতে পারাতেই তো পরমানন্দ! তাই বলে বর্ষনকেও আমি মোটেই হেলাফেলা করতে রাজী না। বাংলার গ্রামে বর্ষার রূপ যে না দেখেছেন তাকে কোন রকম তর্জন গর্জনেই সেই রূপ বুঝানো সম্ভব না। এছাড়া নারীর অশ্রু বর্ষনের কথাই ধরুন। যে কোন পুরুষের গুরুগর্জনকে ছাপিয়ে প্রবল বন্যায় ভাসিয়ে দিতে তাদের কয়েক ফোঁটা অশ্রু বর্ষনই যথেষ্ট। ভাগ্যিস আমরা যতো গর্জাই ততোটা বর্ষাই না। নইলে যে পরিণতি কি হতো তা একমাত্র উপরওয়ালাই জানেন।

যাকগে, বর্ষন না, আজ স্রেফ গর্জনের উপর দিয়েই কাহিনী শেষ করতে চাচ্ছি। আর গর্জনের পটভূমি হচ্ছে আমার লন্ডনের প্রবাস জীবন।

ছাত্র জীবন নাকি পরম সুখের জীবন। তো সেই হিসাবে লন্ডনে ছাত্র হিসাবে বেশ সুখেই দিন কাটাচ্ছিলাম। পড়ালেখার নাম করে মন চাইলে মাঝে মধ্যে ইউনিভার্সিটির ক্যাম্পে পদচারণা, এবং এদিক সেদিক ছিটেফোঁটা পার্ট টাইম চাকরী। সেই চাকরীতে পড়ালেখার খরচ দূরে থাকুক, থাকা-খাওয়ার খরচ তুলতে তুলতেই জানের অবস্থা কাহিল। বাইরে সুধৈর্য ভিজে বিড়াল ভাব ধরে রাখলেও মনে তাই নিত্য আক্ষেপের তর্জন গর্জন। সেইসাথে নতুন কোন চাকরী অর্জনের চেষ্টায় দ্বারে দ্বারে অবিরত ধর্না। আর এই করতে করতেই একদিন খিটখিটে এক জার্মান বুড়োর দেখা পেয়ে গেলাম। অবসরপ্রাপ্ত মানুষ। কামকাজ তেমন নেই। সম্ভবতঃ কথা বলার কাউকে দরকার বলেই আমাকে ওয়েব ডেভেলপার হিসাবে নিয়োগ দিয়ে দিলেন। খুব একটা মনযোগী শ্রোতা না হলেও মুখে অমায়িক টাইপের হাসি ঝুলিয়ে কারো কথা শুনার ভান করাটা আবার অনেক আগেই মোটামুটি রপ্ত করা ছিলো। ফলে বুড়োর প্যানপ্যানানী এবং তর্জন গর্জন দু'টোই সাফল্যের সাথে সামাল দিয়ে চাকরীর নামে বুড়োর বাসায় আমার নিত্য যাতায়াতে তেমন সমস্যা হচ্ছিলো না। (বলতে ভুলে গেছি। বুড়োর অফিস নামক বস্তুটা তার বাসার লিভিং রুমেই অবস্থিত ছিলো।) এই চাকরী নিয়েও অনেক মজার কাহিনী আছে, তবে তা পরে কখনো হয়তো ব্লগাতে পারি।

এদিকে মোটামুটি সম্মানজনক এই চাকরীটা পেতে না পেতেই মাথায় বিনা গর্জনে বজ্রপাত হলো। এক বাঙ্গালী আংকেল-আন্টির বাসার দুই রুমে আমরা চার বাঙ্গালী ছাত্র আস্তানা গেড়েছিলাম। (আমার জীবনের বিশেষ কয়েকজন অতি শ্রদ্ধেয় আংকেল আন্টির মধ্যে ওঁনারা অন্যতম)। তো হঠাত করেই সেই বাসা ছাড়তে হলো। আমরা যেন দূরে সরে না যাই, আংকেল নিজে খুঁজে পেতে পাশের আরেক বাসায় আমাদের থাকার ব্যবস্থা করে দিলেন। আমাদের চারজনের মধ্যে তিনজন সেই নতুন বাসায় অধীষ্ট হলাম। অপরজন এলাকার মায়া ত্যাগ করে নিরুদ্দেশের পথে যাত্রা করলো। আগের বাসায় এক রুমে দু'জন করে থাকলেও এই নতুন বাসায় তিনজনের জন্যে একটাই মাত্র ইয়া বড় রুম। তাই রবিন নামক অতি বিনয়ী সুবোধ বালকও (!?!) এবার আমাদের সাথে একই রুমের সহম'রুমী'। মালপত্র বলতে প্রত্যেকেরই এক আধটা ইয়া বড় স্যুটকেস। তো নতুন বাসায় এসেই প্রথমে তিনজনের মধ্যে কিচিরমিচির শুরু হয়ে গেলো কে কোন বিছানা দখল করবো তা নিয়ে। তিনজনের মধ্যে আমি শুধু মুরুব্বীই না, বলা যায় বিশাল ব্যবধানে মুরুব্বী। তাই মুরুব্বীয়ানার বলে বলীয়ান হয়ে সবচেয়ে মনোরম অবস্থানের খাটে নিজের দাবী প্রতিষ্ঠিত করে সুখী সুখী চেহারায় তাতে আসন গেড়ে বসলাম। বাকী দু'জনও যে যার জায়গার দখল শেষে ধাতস্থ হলো।

সবকিছু গুছগাছ শেষে মনে অনাবিল প্রশান্তির সাথেই আমরা তিনজন ঘুমাতে গেলাম যে যার বিছানায়। একটা সময় ছিলো যখন নতুন জায়গায় গেলে মোটেই ঘুমাতে পারতাম না প্রথম কিছুদিন। তবে সেটা প্রাগৈতিহাসিক যুগের কথা। নিরলস অধ্যাবসায়ের ফল হিসাবে অনেকদিন যাবতই আমি শুধু যেখানে সেখানেই না, এমনকি বাস-ট্রেন-বিমান ভেদে যেকোন অবস্থাতেই নিদ্রাদেবীর আরাধণায় নিমগ্ন হয়ে যেতে পারি অনায়াসেই। (আবার দিনের পর দিন নির্ঘুম রাত পার করতে পারার ক্ষমতাটাও অধ্যাবসায়ের ফসল হিসাবেই অর্জন করেছি বলতে পারেন, কম্পিউটারের সামনে বসে চ্যাটিং করতে করতে)। তাই সেদিনও নতুন বাসায় ঘুমের ব্যঘাত ঘটার মতো কোন কারণ ছিলো না। প্রায় ঘুমিয়েও গেছিলাম বলা যায়। এমনই সময় হঠাত চমকে উঠলাম। এবং পরবর্তী সারাটা রাত যন্ত্রনা, বিরক্তি, ভীতি, অস্থিরতা, মাথার কিরিকিরি কাটকাট ভাব এবং আরও নানারকম জানা অজানা জটিল অনুভূতির মিশ্রপ্রতিক্রিয়ায় বিছানায় এপাশ ওপাশ করে কাটাতে বাধ্য হলাম।

স্বভাবতঃই পরদিন বুড়োর বাসায় যেতে যেতে অর্ধেক দিন খেয়ে ফেলেছি। তো যেই বুড়ো শুধুমাত্র আমাদের মতো কোমলমতি পরহিতৈষী যুবসম্প্রদায়ের জন্যেই খেয়ে না খেয়ে তার অমূল্য জীবনের বাকী দিনগুলো প্রতিদিন উত্‌সর্গ করে যাচ্ছেন, তিনিই বা এহেন অনাচার সহ্য করবেন কোন দুঃখে? আর দুঃখ সহ্য করতে না পেরে তিনি যদি রাগে-অভিমানে একটু তর্জন গর্জন এবং হালুম হুলুম করেই ফেলেন, তাতে আমার মতো বিনয়ী বিগলিত একজন অমায়িক মানুষের মাইন্ড করাও মোটেই শোভা পায় না। কি বলেন? আমিও তাই মাইন্ড করতে পারলাম না চেষ্টা করেও। বরং বুড়োর দুঃখে বিদগ্ধ হয়েই নিজের দুঃখের কথা বয়ান শুরু করলাম। বললাম, নতুন বাসা এবং বাসা চেঞ্জের হ্যাপা নাহয় তাও কোনমতে সামাল দেয়া যায়, কিন্তু সেইসাথে যদি সারা রাত কারও বেসুরো নাকের তর্জন গর্জন শুনে বিনিদ্র রজনী পার করতে হয়, তাহলে আমার মত নরাধমেরই বা আর কি করার আছে? তাও যদি সেই গর্জনের ন্যূনতম তাল-লয়-ছন্দ বোধ থাকতো তাহলেও হয়তো ছন্দের তালে তালে কোন এক সময় মনের ভুলে ঘুমিয়ে পড়তেও পারতাম। কিন্তু যদি "ঘর্‌র্‌র্‌র ফোস ফোস... ঘেঁয়াঊ... হুক... ক্রুউউ ফুস্‌স্‌স... হুক্‌ক ঘর্‌র্‌র..." এমনতরো বেতাল ব্যঞ্জনা চলতে থাকে, তাহলে আমি ক্যাবলাই বা কি করতে পারি?

"কি!?! নাসিকা গর্জন???" এতক্ষণে যেন বুড়ো আমার দুঃখটা হৃদয়ঙ্গম করতে পারলেন। সম্ভবতঃ এ নিয়ে নিজের অতীতের কিছু কাহিনীও তার বিস্মৃত (কিংবা বিস্মিত) স্মৃতিতে দোলা দিয়ে গেলো। চিন্তাক্লিষ্টভাবে পায়চারী করতে করতে তিনি বললেন, "না না, এ যে বড় সর্বনেশে কথা হে বাপু! এভাবে তো একটানা চলতে পারে না। শিঘ্রই একটা ব্যবস্থা করতে হবে"। বলে তিনি আরও গম্ভীরভাবে পায়চারীতে নিমগ্ন হয়ে গেলেন।

সারাদিন মনের সুখে অফিসে বসে বসে চিকেন গ্রেভী প্রোগ্রামিং করলাম। অতংপর বীর বিক্রম যুদ্ধাংদেহী মনোভাব নিয়ে মনের সুখে গুনগুন করতে করতে বাসায় ফিরে আসা। চোখে জ্বলজ্বলে উজ্জ্বল দৃষ্টি, মুখে "এবার দেখে নেবো" টাইপের মিটিমিটি হাসি। শত হলেও এখন খালি হাতে আর যুদ্ধের ময়দানে অবতীর্ন হতে হবে না। অতএব, "বিনা যুদ্ধে নাহি দেব বিনীদ্র রজনী" চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে ঘুমের প্রস্তুতি নিতে লাগলাম।

রাতের আড্ডা হৈচৈ শেষে যথা সময়ে যে যার বিছানায় অধীষ্ট হলাম। আমি বাকি দু'জনের দিকে মুচকি হাসি বর্ষন করতে করতে বিজয়ীর ভঙ্গিতে ব্যাগ থেকে বসের দেয়া প্যাকেটটা বের করলাম। অতংপর প্যাকেট থেকে কানে দেয়ার দু'টো ইয়ার প্লাক বের করে দুই কানে ঠেসে দু'জনের ফ্যালফ্যালে দৃষ্টির সামনে আয়েশী ভঙ্গিতে পাশ ফিরে চোখ বুজলাম। এবার যতো খুশী নাসিকা সঙ্গীত চর্চা করো সারা রাত। কুছ পরোয়া নেহি!


এই কাহিনীর পর বেশ অনেক দিন পার হয়ে গেছে। তদ্দিনে নাসিকা রন্ধ্রের বেতাল গর্জনের মধ্যেও আধুনিক স্টাইলের এক বিশেষ তাল-লয়-সুর আবিস্কার করে ফেলেছে আমার উর্বর মস্তিষ্ক। অতএব কানে তুলো না দিয়েই সেই আধুনিক ব্যঞ্জনার তালে তালে বেশ আয়েশে ঘুমানোয় অভ্যস্ত তখন আমি। বরং কোনদিন যথাসময়ে নাসিকা গর্জনে রুম মাতোয়ারা না হলেই যেন ঘুমের ব্যঘাত ঘটতো আমার।

তো সেই সময় বাংলাদেশ থেকে দু'জন মাঝবয়েসী মেহমান এসে হাজির হলেন আমাদের বাসায়। বাসার মালিক তাদের জন্য আগের থেকেই আলাদা এক রুম ঠিক করে রেখেছিলেন। কিন্তু মাঝরাতের দিকে একজন আমাদের রুমে এসে হাজির। বললেন আমরা যদি কিছু মনে না করি, তাহলে তিনি বাকী রাতটা আমাদের রুমের সোফায় ঘুমাতে চান। আমরা খুশী মনেই মেহমানকে সোফা ছেড়ে দিয়ে আবার নিদ্রাদেবীর আরাধনায় নিমগ্ন হয়ে গেলাম। তবে দেবী মনে হয় তখন আর ততোটা প্রসন্ন ছিলেন না। তাই একটু পরেই পিলে চমকানো ভঙ্গিতে আমার দেহ শুন্যে একটা লাফ দিয়ে বিছানায় ধপ্পাস করে পড়লো। অদ্ভুত অজানা এক আতঙ্ক নিয়ে ঘুম ভেঙ্গে বুঝার চেষ্টা করতে লাগলাম কি হচ্ছে রুমে। কিন্তু মস্তিষ্ক সচল হবার আগেই প্রকম্পমান ভয়াল গর্জনে আত্মারাম প্রায় খাঁচা ছাড়ি ছাড়ি করেও কোনমতে আবার দেহধামে ধাতস্থ হবার প্রয়াস পেলো। সুন্দরবনের বাঘের গর্জনকেও হার মানানো গর্জনে ততোক্ষণে আমাদের রুম বেশ মাতোয়ারা। ভয়াল সেই গর্জনের তালে তালে রুমের সব আসবাবপত্রও বেশ কেঁপে কেঁপে উঠছে। সেই সাথে থেকে থেকে কেঁপে উঠছে আমার প্রায় অবশ হয়ে আসা দেহখানি। খরখরে ঘরঘরে গর্জনে বারংবার শিরশিরে এক অনুভূতির ঢেউ খেলে যাচ্ছে ছেঁড়ে-দে-মা-কেঁদে-বাঁচি মনে। এবং এই আতঙ্ক নিয়েই এক সময় আবিস্কার করলাম যে নতুন জ্বালাময়ী বিপদটির উৎস আমাদের সোফায় ধরাশায়ী নধরকান্তি মেহমানপ্রতীমের উন্নত নাসিকাখানি।

আমার এতোদিনের অভিজ্ঞ নাসিকাগর্জন পরাস্তকারী কর্ণদ্বয়কেও হার মানাতে পারে, এমন নাসিকা গর্জনের অভিজ্ঞতা অর্জন করতে করতে আমি আবেগে বেশ বিহবল হয়ে পড়লাম। বাঘের উপরেও তাহলে সত্যিই ঘোগ বলেও কিছু থাকে বটে! তবে শুধু আমিই না, কিছুক্ষনের মধ্যেই আবিস্কার করলাম যে ঘোগের গর্জনে স্বয়ং বাঘ পর্যন্ত পরাস্ত! পাশের বিছানা থেকে ফিসফিসে কাতর কন্ঠ আমাকে শুধালো, "পল্লব ভাই, আপনার কানে দেয়ার তুলো কি এখনও কিছু বাকি আছে?" আহারে, বেচারা! একই রকম কাতর কন্ঠে আমিও ফিসফিসিয়ে বললাম, "নেই। আপাতত আমার মতোই কানে দুই আঙ্গুল দিয়ে ঘুমানোর চেষ্টা করে দেখো।"

কবে কোন কবি যেন বলেছিলেন সুদীর্ঘ রজনীরও একসময় সমাপ্তি ঘটে। আমাদের বিনীদ্র রজনীরও তাই এক সময় সমাপ্তি হলো। ভোরের আলোর সাথে সাথে ঘোগের গর্জন বাঘের গর্জন হয়ে শেষে বেড়ালের মিউ মিউ হতে হতে এক সময় মিইয়ে গেলো। লাল লাল চোখ নিয়ে উসকু খুসকো চুল এবং দিশেহারা চেহারার আমরাও এক সময় হাফ ছেড়ে বাঁচলাম। এতক্ষণের টর্চার সহ্য করে শরীরও এবার হাল ছেড়ে দিলো। অতএব আবারো বিছানায় ধপ্পাস্। আতঙ্কে নয়, এবার আরামে দু'চোখ বুঁজলাম।

বেশ বেলা করে বিছানা ছেড়ে কিচেনে গিয়ে হাজির হলাম পেটপূজা করতে। সেখানে আমাদের রাতের অতিথিও বিদ্যমান। ওঁনাকে রাতে আমাদের রুমে থাকতে দেয়ায় বারবার বিনয়ীভাবে ধন্যবাদ জানাতে লাগলেন। বললেন, "মাঝরাতে আপনাদের এভাবে ডেকে তুলার জন্য আমি খুবই দুঃখিত। কিন্তু কি করবো বলুন, আমার সঙ্গীটি এমন কঠিন নাক ডাকেন যে ঘুমাতে না পেরে বাধ্য হয়ে আপনাদের রুমে গিয়ে হাজির হয়েছি।"

আমি কিছুক্ষন হা করে মেহমানের দিকে তাকিয়ে থাকলাম। ঘোগের উপরেও তাহলে আরও কিছু থাকতে পারে! ভাগ্যিস ইনার বদলে দ্বিতীয় সেই মেহমানটি রাতে আমাদের রুমে এসে হাজির হননি!



Shikto Bhalobasha


clock February 21, 2009 17:28 by author Pallab

সিক্ত ভালবাসা 


আমার ভালবাসা সখী পর্বত নয়
যতই আঘাত হানো রইবে অটল,
আমার ভালবাসা সখী পেলব তরল
সুধা সঞ্চিত করে রাখা জলাশয়।

আঘাতের ঢেউ খেলে উপরেই তার
অন্তরে সুশীতল গভীর অতল,
বাহিরে যতোই বয়ে যাক ঝড়-জল
হৃদয়ে অনন্ত প্রেমের জোয়ার।

আমার ভালবাসা সখী বৃষ্টি ধারায়
তিলে তিলে করে তার প্রাণ সঞ্চয়,
ভালবাসা জলাশয় সিক্ত হৃদয়
সীমানা ছাড়িয়ে তার প্রসার বাড়ায়।

মিষ্টি কথার কোন প্রলোভনে নয়,
আমার ভালবাসা সখী চোখের তারায়,
চোখের আড়ালে তা যতোই হারায়
মনের গোপনে রয়ে যায় অক্ষয়।

আমার ভালবাসা সখী তরল আকার
হাতের মুঠোয় তাকে ধরে রাখা দায়,
পাওয়া না পাওয়ার কোন হিসেব খাতায়
খুঁজতে যেয়ো না একে প্রেয়সী আমার।



Jibon Shagor


clock February 21, 2009 17:24 by author Pallab

জীবন সাগর


জীবন নামের অথৈ সাগরে
ভেসে যায় মোর ভেলা,
সময় স্রোতের টানে ছুটে চলি
অজানায় সারা বেলা।
পাল তুলে হাতে হাল ধরি জোরে
বুক কাঁপে থরোথরো,
বেলা শেষ তবু জানি না কুলের
কতো পথ বাকী আরও।
যতদূর দেখি জলরাশি শুধু
ঢেউ খেলে চারিধারে,
ছলোছলো তার সুর জেন আরো
বাড়ায় নীরবতারে।
একেলা ভেলায় ভেসে খুঁজে ফিরি
স্বপ্নের কুলরেখা,
জানি না কোথায় চলা শেষ হবে
ঠিকানার পাবো দেখা।



Dushshopno


clock February 11, 2009 10:44 by author Pallab

দুঃস্বপ্ন


ঘোর কৃষ্ণ রাত। পরিবেশ একেবারে নিথর, নিশ্চুপ। গ্রাম্য মাটির এক অপ্রশস্ত রাস্তায় দাড়িয়ে আছি আমি, একা। চারদিক অন্ধকারে আচ্ছন্ন। রাস্তা থেকে এক শাখা রাস্তা চলে গেছে বাম দিকে। সেই রাস্তা ধরে থেমে থেমে এগিয়ে চলেছি আমি। মনে সন্দেহ, এবং অদ্ভুত এক অস্বস্তি। রাস্তাটা কিছুদূর গিয়েই সামনে শেষ হয়েছে। শেষ প্রান্তে অন্ধকারের পটভূমিতে আরও কাল রঙের ঝোপঝাড়ের আভাস টের পাওয়া যাচ্ছে। তার ওপাশে অনেক বড় একটা বিল আছে টের পেলাম। রাস্তার দু'পাশেও ছাড়া ছাড়া ঢোলকলমীর ঝোপ রাস্তার উপরে হেলে আছে। অনেকদিনের অব্যাবহৃত পথ। কিছুদূর এগিয়েই থেমে দাড়ালাম আমি। তিক্ষ্ণ দৃষ্টি পথের শেষ প্রান্তে। বুঝার চেষ্টা করছি সেখানে কি আছে যা আমাকে আকর্ষন করছে। মন চাচ্ছে না আরও এগিয়ে যাই, কিন্তু তারপরও অদ্ভূত ভীতিকর সেই আকর্ষনে আরও কয়েক পা সামনে গিয়ে থেমে দাড়ালাম। এবার রাস্তার শেষ মাথা অনেকটা পরিস্কার দেখা যাচ্ছে। ঝোপ ঝাড়ের ফাঁক দিয়ে রাস্তা বরাবর সেখানে এবার বাঁশের তৈরী অতি পুরানো এক টয়লেট আবিস্কার করলাম, যা বাঁশের খুঁটির সাহায্যে বিলের উপর অবস্থিত। রাস্তাটা এই টয়লেটে যাবার জন্যেই ব্যবহৃত হতো। কিন্তু টয়লেট না, টয়লেটের বেড়ার দরজার বামদিকে ঝোপের অন্ধকারের মধ্যে আমার দৃষ্টি স্থির। আমি ছাড়াও আশেপাশে আমি অন্য কনো প্রাণের অস্তিত্ব টের পাচ্ছি যা ধীরে ধীরে আমার চেতনার উপর প্রভাব বিস্তার করছে। সামনে কাল অন্ধকারে তার চেয়েও কাল অতি লম্বা এক মানুষের আকৃতি পরিস্কারভাবে ফুটে উঠছে এবার আমার দৃষ্টিতে। একেবারে স্থির হয়ে আছে তা, মূর্তির মতো। পা থেকে মাথা পর্যন্ত কাল কাপড়ে ঢাকা। মুখের জায়গাও কাল অন্ধকার। বুঝতে পারলাম এই অস্তিত্বই আমাকে এখানে টেনে এনেছে। টের পাচ্ছি আমার মনের উপর অন্ধকার ও ভীতিকর এক জোরালো দখল। দৃষ্টি আরও তিক্ষ্ণ হলো। কালো ঘোমটার আরও ভিতরে দেখার চেষ্টায় ব্যস্ত। এবং ধীরে ধীরে সেখানে ফুটে উঠলো হলদেটে স্থির একজোড়া জ্বলন্ত চোখ। স্থির জীবন্ত দৃষ্টিতে তা আমার দিকে তাকিয়ে আছে। বিশাল ক্ষমতাধর ভীতিকর সেই অস্তিত্বের অনুভূতিতে প্রচন্ড আতঙ্ক গ্রাস করে নিলো আমাকে। সেই ক্ষমতার বিরুদ্ধে কিছু করার তুলনায় অতি ক্ষুদ্র আমি, কালো অন্ধকারের জগতে আমার অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যেতে লাগলো তার আকর্ষনে।

প্রচন্ড আতঙ্ক নিয়ে ঘুম থেকে জেগে উঠলাম আমি শেষ রাতে। স্বভাবতঃই বাকী রাতটুকু আর ঠিকমতো ঘুমাতে পারিনি আমি একা সেই রুমে। এমনই জীবন্ত বাস্তব সেই আতঙ্ক যে তারপরও আরও বেশ কয়েকদিন আমি তা স্পষ্ট অনুভব করেছি। চোখ বন্ধ করলেই চখের সামনে ভেসে উঠেছে সেই অবয়ব, মৃত্যুর স্থিরতায় হলদেটে একজোড়া জীবন্ত চোখ। অনুভব করেছি অন্ধকার ভিন্ন এক জগতের আগ্রাসী আকর্ষন।

এখনও প্রায়ই অন্ধকার সেই জগতের অস্তিত্ব ও আকর্ষন টের পাই আমি। সেই সাথে স্বপ্নীল সুন্দর ভিন্ন কোন জগতের হাতছানিও যেন অনুভব করি কখনো কখনো, কিন্তু কল্পনায় স্পষ্ট ফুটিয়ে তুলতে পারি না তা কখনো। আমাদের বাস্তব জগত যেন এই দুই জগতের মিলনস্থল। আমাদের প্রতিটি কাজই যেন নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে এদের কোন না কোন একটার আকর্ষনে। হয় আমরা এগিয়ে যাচ্ছি বন্দিত্বের সেই অন্ধকার জগতের দিকে, নয়তো স্বপ্নের এক মুক্ত জগতের দিকে। কিন্তু আমরা কি তা অনুভব করতে পেরেছি ঠিকমতো? নিজেকে মুক্ত করতে পেরেছি আমাদের মনের এক এক বন্দীত্ব থেকে?