Pallab's Site
Md Ashfaqur Rahman Pallab
Home
AboutExpand About
Blog
ServicesExpand Services
Albums
Guestbook
Contact

ইয়াহু ৩৬০, এবং বকলম ডট কম


clock June 28, 2010 05:15 by author Pallab

ইন্টারনেটে আমার ব্লগিংয়ের শুরুটা হয় ইয়াহু ৩৬০ দিয়ে। প্রথম দিকে ব্লগ সম্পর্কে খুব একটা ধারণা ছিলো না। ইন্টারনেটে কোথাও নিজের কবিতাগুলো টুকে রাখার সুযোগ পেয়েই খুশি ছিলাম। তবে ব্লগ যে শুধুমাত্র নিজের লেখা প্রকাশেরই জায়গা না, বরং মূলতঃ একে অপরের সাথে ভাবের আদান প্রদানের এক কেন্দ্রবিন্দু, অন্যের দৃষ্টিভঙ্গির সাথে পরিচিত হবার পাশাপাশি মতামত/আলোচনায় নিজের যুক্তিগুলোও যেখানে উপস্থাপন করা যায়, এটা বুঝতেও তখন খুব বেশি সময় লাগেনি। এদিক দিয়ে ইয়াহু ৩৬০ ছিলো অনন্য। ব্লগিংয়ের পাশাপাশি সেখানে একে অপরের সাথে বন্ধুত্ব করা, শুধুমাত্র বন্ধুদের বিভিন্ন কর্মকান্ডের আপডেট দেখতে পারা, সর্বোপরি সমমনা অনেকেরই এক হয়ে একসাথে আড্ডা মারার মতো একটা পরিবেশ ছিলো সেখানে, যা পরে অন্য কোন ব্লগিং সাইটেই পাইনি। ইয়াহু ৩৬০-এর নিজস্ব একটা সোশ্যাল নেটওয়ার্ক ছিলো, যদিও সেটাকে আমি ফেসবুক বা অন্য কোন সোশ্যাল নেটওয়ার্কের সাথে তুলনা করবো না। একে আমি বরং ব্লগভিত্তিক সোশ্যাল নেটওয়ার্ক হিসাবেই আখ্যায়িত করবো। এখানে ব্লগ লেখাটাই ছিলো মূল বিষয়। বাকী সব নেটওয়ার্কিং এই ব্লগকে কেন্দ্র করেই। আমাদের আড্ডাও হতো ব্লগের কমেন্ট সেকশনে একের পর এক মন্তব্য করার মাধ্যমে। 

 

কিন্তু ইয়াহুর মতো এতো বড় একটা কোম্পানী এই সাইটের পিছনে এতো লোক খাটিয়েও একে ধরে রাখতে পারলো না। এটা কি বানিজ্যিক কোন কারণে, নাকি টেকনিক্যাল আরও কারণ আছে এর পিছনে, তা জানা হয়নি। তবে শেষদিকে ইয়াহু ৩৬০ বেশ স্লো হয়ে গিয়েছিলো। অনেক ফিচার ঠিকমতো কাজ করতো না। আমার ধারণা ইয়াহু কর্তৃপক্ষের ধারণার চেয়েও বেশি ব্যবহারকারী নিয়মিত ৩৬০ ব্যবহার করায় এতোজনের চাপ সাইটটি নিতে পারছিলো না। ইয়াহু ৩৬০-কে সেভাবে ডিজাইন করা হয়নি। ফলস্রুতিতে ৩৬০ কে বন্ধ করে এর চেয়েও আরও ভাল সাইট চালু করার ঘোষনা দেয়াই ইয়াহু কর্তৃপক্ষের কাছে সঙ্গত মনে হয়েছিলো। কিন্তু প্রতিস্রুত সেই নতুন সাইট, যা কিনা প্রথমে ইয়াহু প্রোফাইল এবং পরবর্তীতে পালস নামে আত্মপ্রকাশ করে, কোন দিক দিয়েই ইয়াহু ৩৬০-র সেই অভাবটা আর পূরণ করতে পারেনি।

 

৩৬০ বন্ধ হওয়াতে স্বভাবতঃই ঝুঁকে পড়লাম ফেসবুকের দিকে। কিন্তু এখানে ব্লগিংয়ের সেই পরিবেশটাই নেই। শুধুমাত্র বন্ধু তৈরী, তাদের সাথে কথাবার্তার আদান-প্রদান, একেবারে বেশি হলে ফটো এলবাম শেয়ার করা, এই ছিলো প্রাথমিক কর্মকান্ড। তারপর ফেসবুকের বিভিন্ন এপ্লিকেশানে একেকবার ঝুঁকে পড়লেও একটানা আকর্ষণ ধরে রাখার মতো কোনটাই ছিলো না। যদিও এখন আমি ফেসবুকের একজন নিয়মিত সদস্য, স্বীকার করতেই হবে যে ফেসবুকেরও নিজস্ব জোরালো এক আবেদন আছে, তার পরেও মনের ভিতরের ব্লগার যেন এতে কোনমতেই তৃপ্ত হতে পারে না। ইতিমধ্যে বাংলা ব্লগিংয়ের বেশ কিছু সাইট স্বমহিমায় আত্মপ্রকাশ করেছে। তার অনেকগুলোরই পপুলার হতেও বেশি সময় লাগেনি। এখনও নতুন নতুন আরও অনেক বাংলা ব্লগিংয়ের সাইটের উদয় হচ্ছে। সামহোয়ারইন থেকে নিয়ে আরও কিছু ব্লগিং সাইটে আমিও কমবেশি লেখালেখি শুরু করলাম। কিন্তু ৩৬০-র অতৃপ্তিটা যেন কেউই পূরণ করতে পারছিলো না। পপুলার সাইটগুলোতে একটা ব্লগ পোস্ট করার কয়েক ঘন্টার মধ্যেই সেটা প্রথম পাতা থেকে অন্যান্য পাতায় গিয়ে হারিয়ে যায়। আমার পরিচিত কোন বন্ধু এক বেলা আগে কোন ব্লগ লেখলেও আমি ঢুকে যে সেটা দেখতে পাবো, বা জানবো, তেমন কোন উপায় অন্তত আমার চোখে পরেনি। 

 

ইয়াহু ৩৬০ বন্ধ হবার প্রায় ৩ বছর পরে অবশেষে নতুন এক বাংলা ব্লগিংয়ের সাইট খুঁজে পেলাম, যেটা ইয়াহু ৩৬০-র সেই অভাব পূরণের জন্য অন্তত চেষ্টা করে যাচ্ছে বলে মনে হলো। সাইটটি হচ্ছে বকলম ডট কম (http://www.bokolom.com)। যাদের স্লোগান হচ্ছে "কলম নয়, কী-বোর্ড দিয়ে লেখা"। সাইটটির গঠন বিন্যাস অনেকটা ৩৬০-র মতোই। এখানে প্রতি সদস্যের জন্য আলাদা প্রোফাইল পাতা আছে, অন্য সদস্যদের সাথে বন্ধুত্ব করা যায়, এবং লগইন করলে শুধু মাত্র বন্ধুদের লেখা ব্লগ এবং অন্যান্য কর্মকান্ডের আপডেট দেখা যায়। ফলে পরিচিত কোন বন্ধু কবে কোন ব্লগ লেখলো সেটা দেখার জন্য প্রত্যেকের ব্লগে ব্লগে গিয়ে ঢু মেরে দেখে আসতে হয় না। আবার বন্ধুদের প্রোফাইলের আলাপচারিতা বিভাগে গিয়ে আড্ডাও মারা যায়। সাইটের নেভিগেশন লে-আউটও অনেকটা সেই ইয়াহু ৩৬০-র মতোই।

 

নতুন সাইট। তাই এখনও আরও অনেক ফিচার আসা বাকী আছে বলে শুনেছি। তবে মনে হচ্ছে অনেকদিন পর আবার ব্লগিংয়ের নিজস্ব একটা পরিবেশ খুঁজে পেতে যাচ্ছি। সাইটটি অবশ্য এখনও যে কাউকে এর সদস্য হতে দিচ্ছে না। তবে বকলমের যোগাযোগ পাতা থেকে কেউ যদি তার অন্যান্য ব্লগের লিঙ্ক দিয়ে যোগাযোগ করে, আর সেসব লিঙ্কের লেখা পড়ে বকলম কর্তৃপক্ষের মনে হয় যে সেগুলোর ভাষা এবং বিষয় মার্জিত এবং সুস্থ মানসিকতার পরিচায়ক, তবে তাদের বকলমের সদস্য হিসাবে নেয়া হচ্ছে। প্রাথমিক পর্যায়ের এই সদস্যদের পরবর্তী সদস্যের তুলনায় সবসময়ই নাকি অতিরিক্ত সুবিধা দেয়া হবে।

 

বাংলা ব্লগিংয়ের এতো এতো সাইটের পাশাপাশি সবার মাঝে বকলমও তার নিজস্ব জায়গা করে নিতে পারে কিনা, সেটা দেখারই অপেক্ষায় রইলাম।



Error using AJAX ControlToolkit in BlogEngine.NET


clock June 9, 2010 03:11 by author Pallab

I have been developing a project using BlogEngine.NET 1.6.0, where I need to use some of the controls from AjaxControlToolkit. I downloaded the AjaxControlToolkit released on May 14th from http://ajaxcontroltoolkit.codeplex.com/releases/view/43475. I added the ToolkitScriptManager inside the MasterPage, and a CalendarExtender control in a User Control. I did not use any other javascript code on them and did not write any custome code as well. However, while running the website, I used to get the following JavaScript error each time I load a page that contains the User Control (where I added the CalendarExtender):

Error: 'Sys.Extended.UI' is null or not an object

I was searching for the solution on the web, but could not find any. I looked at the Web.config, and also tried changing the version of AjaxControlToolkit, but no use. After several hours of hard time and trying various solutions, I finally came across a post with perfect solution. What I needed was to add an extra attribute CombineScripts="false" to the ToolkitScriptManager tag. My code looked like:

 

    <asp:ToolkitScriptManager ID="ToolkitScriptManager1" runat="server"
        LoadScriptsBeforeUI="true"
        CombineScripts="false"
        EnablePartialRendering="true" 
        EnableScriptGlobalization="true"
        EnableScriptLocalization="true">
    </asp:ToolkitScriptManager>

 

And BANG!!! It started working! I tried the page with IE, FireFox and Chrome, and it worked perfect in all of them.



স্বপ্নের স্বাধীনতা


clock March 26, 2010 08:46 by author Pallab

একটা দেশের মাঝেই ছিলো অন্য আরেক দেশ,
তাদের মাঝে বিভেদ ছিলো বেশ।
কারও হাতে শাসন ছিলো, 
দেশ শোষনের আসন ছিলো,
সাথে ছিলো মনের মাঝে ভরপুর বিদ্বেষ।
তারা ভাবতো তারাই সব
তারা সব মহানুভব,
তাদের শাসন-শোষন চলবে অনিমেষ।

দেশের মাঝে অন্য জাতি, ক্লান্ত ছিলো তারা,
অত্যাচারে ছিলো দিশেহারা।
তাদের দেয়ালে পিঠ ঠেকলে পরে
উঠলো ফুঁসে হঠাৎ করে,
এক হলো সব ভাঙ্গতে সকল অনিয়মের ধারা।
সব ভেদাভেদ ছুঁড়ে ফেলে
কাঁধে কাঁধে সবাই মিলে
ঠিক করলো ভিনদেশীদের করবে যে দেশছাড়া।

তখন দানবেরা ন্যায়বিচারের কথা গেলো ভুলে,
তাদের মুখোশ গেলো খুলে।
রক্তহোলির মত্ত নাচে
অগ্নিশিখার তপ্ত আঁচে
নরক প্রলয় আনলো ধরায় বজ্রধ্বনি তুলে।
ভুলে সাম্যবাদের গান
তখন সেসব পাষাণ প্রাণ
করলো আঘাত মানবতার মূল্যবোধের মূলে।

সাথে চামচিকা আর ছারপোকারা নাড়লো সুখে দাড়ি,
বললো "সুযোগ হেলায় কেন ছাড়ি?"
তারা পা-চাটা সব প্রাণী,
তারা কেমন সবাই জানি,
তারা সুযোগলোভী মানুষরূপি জন্তু এ দেশটারই।
দেশের বুদ্ধিজীবি মেরে
ঘরের মা-বোনদের ধরে
মনের সুখে লুটপাটে সব মাতলো তাড়াতাড়ি।

তবু দমন-পীড়ন অত্যাচারে কেউ থামেনি তাতে,
বরং সবাই অস্ত্র নিলো হাতে।
প্রাণের মায়া ছেড়ে
দেশের সবাই এলো তেড়ে,
নির্মমতার জবাব দিলো তুমুল প্রতিঘাতে।
দিকে দিকে উঠলো সাড়া,
বুঝে গেলো দানবেরা
চলবে না আর শাসন তাদের স্বাধীন এ দেশটাতে।

তখন পায়ের ফাঁকে লেজ ঢুকালো তারা,
জান বাঁচাতে তারাই দিশেহারা।
লাজলজ্জার মাথা খেয়ে
হুমড়ি খেয়ে পড়লো পায়ে,
বললো, "এসব ঢেড় হয়েছে, এই বেলা চাই ছাড়া"।
সেসব চামচিকারাও তাতে
কেউ পালালো সাথে,
আর গর্তে গিয়ে মুখ লুকালো দেশে ছিলো যারা।

আমরা তখন সবাই খুশি, স্বাধীন এ দেশ বুঝি,
স্বপ্ন দিয়ে নতুন জীবন খুঁজি।
এ দেশ এবার নতুন করে
সবাই মিলে তুলবো গড়ে,
মনের মাঝে উদ্দীপনা আশাই ছিলো পুঁজি।
তখন শুধুই সুখের ঢেউ,
তখন তাই বুঝিনি কেউ
এই জগতে মিলে না যে কিছুই সোজাসুজি।

তাই আজও দেখি স্বাধীনতার তিন তিন যুগ পরে
দেশপ্রেমীরা ধুকে ধুকে মরে।
ক্ষমতাতে যে যায় দেখি
হরেদরে সবাই একই,
সবাই বুঝে দেশটা লুটে খাবে কেমন করে।
গর্ত ছেড়ে তাইতো আবার
এ দেশটাকে করতে সাবার
ছারপোকারাও বেড়ায় ঘুরে তাদের আঁচল ধরে।

হায় হতভাগা এ দেশ আমার, হতভাগা জাতি!
প্রতারণাই নিত্য যেন সাথী।
বারে বারে গর্জে উঠে
যতোবারই যাই না ছুটে
স্বপ্ন অধরাই থেকে যায় ধ্বংসে যতোই মাতি।
আমরা তবু হাল ছাড়ি না,
আমরা কারো ধার ধারি না,
আঁধার পারি দিতে জানি আসুক যতো রাতই।
আমরা বীর বাংলার জাতি।



Add server-side Click, DoubleClick events to ASP.NET controls.


clock February 1, 2010 08:11 by author Pallab

This article demonstrates C# and VB.NET codes to execute server-side click and double-click events on ASP.NET controls like TextBox, ListBox, DropDownList etc.


Adding Click event to TextBox

Please go through the following instruction:

1. Add a TextBox control to the aspx page. You don't need to add any special code to it. The following code shows a sample TextBox added to aspx page:

        
        <asp:Label ID="lblTitle" runat="server" 
            Text="Click on following Text Box:"></asp:Label>
        <br />
        <br />
        <asp:TextBox ID="txtText" runat="server"></asp:TextBox>

2. In the codebehind file of the aspx page, enter the following code:

C#
protected void Page_Load(object sender, EventArgs e)
    {
        //Add Click event to Textbox
        if (Request["__EVENTARGUMENT"] != null && Request["__EVENTARGUMENT"] == "txtOnClick")
        {
            txtText_Click();
        }
        txtText.Attributes.Add("onclick", this.Page.ClientScript.GetPostBackEventReference(txtText, "txtOnClick"));

    }

    //Click Event Function
    private void txtText_Click()
    {
        //Write down any code here that you want to execute while Click even on TextBox fires
        txtText.Text = "You clicked me";
    }

VB.NET

Protected Sub Page_Load(ByVal sender As Object, ByVal e As System.EventArgs) Handles Me.Load
        'Add Click event to Textbox
        If (Not IsDBNull(Request("__EVENTARGUMENT"))) And Request("__EVENTARGUMENT") = "txtOnClick" Then

            txtText_Click()
        End If


        txtText.Attributes.Add("onclick", Page.ClientScript.GetPostBackEventReference(txtText, "txtOnClick"))
    End Sub


    'Click Event Function
    Private Sub txtText_Click()
        'Write down any code here that you want to execute while Click even on TextBox fires
        txtText.Text = "You clicked me"
    End Sub



নাসিকা গর্জন


clock October 5, 2009 11:40 by author Pallab

আমরা বাঙ্গালী জাতি নাকি যতো গর্জাই ততোটা বর্ষাই না। যদিও গর্জনেই যদি কাজ হাসিল হয়ে যায়, তাহলে বর্ষানোরই বা দরকার কি তা আমার ক্ষুদ্র মস্তিষ্কে তেমন একটা বোধগম্য হয় না। এ নিয়ে অবশ্য খুব একটা মাথা ঘামাতেও আমি রাজি না। গুণীজনেরা যা বলেন তা বিনা বাক্যব্যায়ে মেনে নিতে পারাতেই তো পরমানন্দ! তাই বলে বর্ষনকেও আমি মোটেই হেলাফেলা করতে রাজী না। বাংলার গ্রামে বর্ষার রূপ যে না দেখেছেন তাকে কোন রকম তর্জন গর্জনেই সেই রূপ বুঝানো সম্ভব না। এছাড়া নারীর অশ্রু বর্ষনের কথাই ধরুন। যে কোন পুরুষের গুরুগর্জনকে ছাপিয়ে প্রবল বন্যায় ভাসিয়ে দিতে তাদের কয়েক ফোঁটা অশ্রু বর্ষনই যথেষ্ট। ভাগ্যিস আমরা যতো গর্জাই ততোটা বর্ষাই না। নইলে যে পরিণতি কি হতো তা একমাত্র উপরওয়ালাই জানেন।

যাকগে, বর্ষন না, আজ স্রেফ গর্জনের উপর দিয়েই কাহিনী শেষ করতে চাচ্ছি। আর গর্জনের পটভূমি হচ্ছে আমার লন্ডনের প্রবাস জীবন।

ছাত্র জীবন নাকি পরম সুখের জীবন। তো সেই হিসাবে লন্ডনে ছাত্র হিসাবে বেশ সুখেই দিন কাটাচ্ছিলাম। পড়ালেখার নাম করে মন চাইলে মাঝে মধ্যে ইউনিভার্সিটির ক্যাম্পে পদচারণা, এবং এদিক সেদিক ছিটেফোঁটা পার্ট টাইম চাকরী। সেই চাকরীতে পড়ালেখার খরচ দূরে থাকুক, থাকা-খাওয়ার খরচ তুলতে তুলতেই জানের অবস্থা কাহিল। বাইরে সুধৈর্য ভিজে বিড়াল ভাব ধরে রাখলেও মনে তাই নিত্য আক্ষেপের তর্জন গর্জন। সেইসাথে নতুন কোন চাকরী অর্জনের চেষ্টায় দ্বারে দ্বারে অবিরত ধর্না। আর এই করতে করতেই একদিন খিটখিটে এক জার্মান বুড়োর দেখা পেয়ে গেলাম। অবসরপ্রাপ্ত মানুষ। কামকাজ তেমন নেই। সম্ভবতঃ কথা বলার কাউকে দরকার বলেই আমাকে ওয়েব ডেভেলপার হিসাবে নিয়োগ দিয়ে দিলেন। খুব একটা মনযোগী শ্রোতা না হলেও মুখে অমায়িক টাইপের হাসি ঝুলিয়ে কারো কথা শুনার ভান করাটা আবার অনেক আগেই মোটামুটি রপ্ত করা ছিলো। ফলে বুড়োর প্যানপ্যানানী এবং তর্জন গর্জন দু'টোই সাফল্যের সাথে সামাল দিয়ে চাকরীর নামে বুড়োর বাসায় আমার নিত্য যাতায়াতে তেমন সমস্যা হচ্ছিলো না। (বলতে ভুলে গেছি। বুড়োর অফিস নামক বস্তুটা তার বাসার লিভিং রুমেই অবস্থিত ছিলো।) এই চাকরী নিয়েও অনেক মজার কাহিনী আছে, তবে তা পরে কখনো হয়তো ব্লগাতে পারি।

এদিকে মোটামুটি সম্মানজনক এই চাকরীটা পেতে না পেতেই মাথায় বিনা গর্জনে বজ্রপাত হলো। এক বাঙ্গালী আংকেল-আন্টির বাসার দুই রুমে আমরা চার বাঙ্গালী ছাত্র আস্তানা গেড়েছিলাম। (আমার জীবনের বিশেষ কয়েকজন অতি শ্রদ্ধেয় আংকেল আন্টির মধ্যে ওঁনারা অন্যতম)। তো হঠাত করেই সেই বাসা ছাড়তে হলো। আমরা যেন দূরে সরে না যাই, আংকেল নিজে খুঁজে পেতে পাশের আরেক বাসায় আমাদের থাকার ব্যবস্থা করে দিলেন। আমাদের চারজনের মধ্যে তিনজন সেই নতুন বাসায় অধীষ্ট হলাম। অপরজন এলাকার মায়া ত্যাগ করে নিরুদ্দেশের পথে যাত্রা করলো। আগের বাসায় এক রুমে দু'জন করে থাকলেও এই নতুন বাসায় তিনজনের জন্যে একটাই মাত্র ইয়া বড় রুম। তাই রবিন নামক অতি বিনয়ী সুবোধ বালকও (!?!) এবার আমাদের সাথে একই রুমের সহম'রুমী'। মালপত্র বলতে প্রত্যেকেরই এক আধটা ইয়া বড় স্যুটকেস। তো নতুন বাসায় এসেই প্রথমে তিনজনের মধ্যে কিচিরমিচির শুরু হয়ে গেলো কে কোন বিছানা দখল করবো তা নিয়ে। তিনজনের মধ্যে আমি শুধু মুরুব্বীই না, বলা যায় বিশাল ব্যবধানে মুরুব্বী। তাই মুরুব্বীয়ানার বলে বলীয়ান হয়ে সবচেয়ে মনোরম অবস্থানের খাটে নিজের দাবী প্রতিষ্ঠিত করে সুখী সুখী চেহারায় তাতে আসন গেড়ে বসলাম। বাকী দু'জনও যে যার জায়গার দখল শেষে ধাতস্থ হলো।

সবকিছু গুছগাছ শেষে মনে অনাবিল প্রশান্তির সাথেই আমরা তিনজন ঘুমাতে গেলাম যে যার বিছানায়। একটা সময় ছিলো যখন নতুন জায়গায় গেলে মোটেই ঘুমাতে পারতাম না প্রথম কিছুদিন। তবে সেটা প্রাগৈতিহাসিক যুগের কথা। নিরলস অধ্যাবসায়ের ফল হিসাবে অনেকদিন যাবতই আমি শুধু যেখানে সেখানেই না, এমনকি বাস-ট্রেন-বিমান ভেদে যেকোন অবস্থাতেই নিদ্রাদেবীর আরাধণায় নিমগ্ন হয়ে যেতে পারি অনায়াসেই। (আবার দিনের পর দিন নির্ঘুম রাত পার করতে পারার ক্ষমতাটাও অধ্যাবসায়ের ফসল হিসাবেই অর্জন করেছি বলতে পারেন, কম্পিউটারের সামনে বসে চ্যাটিং করতে করতে)। তাই সেদিনও নতুন বাসায় ঘুমের ব্যঘাত ঘটার মতো কোন কারণ ছিলো না। প্রায় ঘুমিয়েও গেছিলাম বলা যায়। এমনই সময় হঠাত চমকে উঠলাম। এবং পরবর্তী সারাটা রাত যন্ত্রনা, বিরক্তি, ভীতি, অস্থিরতা, মাথার কিরিকিরি কাটকাট ভাব এবং আরও নানারকম জানা অজানা জটিল অনুভূতির মিশ্রপ্রতিক্রিয়ায় বিছানায় এপাশ ওপাশ করে কাটাতে বাধ্য হলাম।

স্বভাবতঃই পরদিন বুড়োর বাসায় যেতে যেতে অর্ধেক দিন খেয়ে ফেলেছি। তো যেই বুড়ো শুধুমাত্র আমাদের মতো কোমলমতি পরহিতৈষী যুবসম্প্রদায়ের জন্যেই খেয়ে না খেয়ে তার অমূল্য জীবনের বাকী দিনগুলো প্রতিদিন উত্‌সর্গ করে যাচ্ছেন, তিনিই বা এহেন অনাচার সহ্য করবেন কোন দুঃখে? আর দুঃখ সহ্য করতে না পেরে তিনি যদি রাগে-অভিমানে একটু তর্জন গর্জন এবং হালুম হুলুম করেই ফেলেন, তাতে আমার মতো বিনয়ী বিগলিত একজন অমায়িক মানুষের মাইন্ড করাও মোটেই শোভা পায় না। কি বলেন? আমিও তাই মাইন্ড করতে পারলাম না চেষ্টা করেও। বরং বুড়োর দুঃখে বিদগ্ধ হয়েই নিজের দুঃখের কথা বয়ান শুরু করলাম। বললাম, নতুন বাসা এবং বাসা চেঞ্জের হ্যাপা নাহয় তাও কোনমতে সামাল দেয়া যায়, কিন্তু সেইসাথে যদি সারা রাত কারও বেসুরো নাকের তর্জন গর্জন শুনে বিনিদ্র রজনী পার করতে হয়, তাহলে আমার মত নরাধমেরই বা আর কি করার আছে? তাও যদি সেই গর্জনের ন্যূনতম তাল-লয়-ছন্দ বোধ থাকতো তাহলেও হয়তো ছন্দের তালে তালে কোন এক সময় মনের ভুলে ঘুমিয়ে পড়তেও পারতাম। কিন্তু যদি "ঘর্‌র্‌র্‌র ফোস ফোস... ঘেঁয়াঊ... হুক... ক্রুউউ ফুস্‌স্‌স... হুক্‌ক ঘর্‌র্‌র..." এমনতরো বেতাল ব্যঞ্জনা চলতে থাকে, তাহলে আমি ক্যাবলাই বা কি করতে পারি?

"কি!?! নাসিকা গর্জন???" এতক্ষণে যেন বুড়ো আমার দুঃখটা হৃদয়ঙ্গম করতে পারলেন। সম্ভবতঃ এ নিয়ে নিজের অতীতের কিছু কাহিনীও তার বিস্মৃত (কিংবা বিস্মিত) স্মৃতিতে দোলা দিয়ে গেলো। চিন্তাক্লিষ্টভাবে পায়চারী করতে করতে তিনি বললেন, "না না, এ যে বড় সর্বনেশে কথা হে বাপু! এভাবে তো একটানা চলতে পারে না। শিঘ্রই একটা ব্যবস্থা করতে হবে"। বলে তিনি আরও গম্ভীরভাবে পায়চারীতে নিমগ্ন হয়ে গেলেন।

সারাদিন মনের সুখে অফিসে বসে বসে চিকেন গ্রেভী প্রোগ্রামিং করলাম। অতংপর বীর বিক্রম যুদ্ধাংদেহী মনোভাব নিয়ে মনের সুখে গুনগুন করতে করতে বাসায় ফিরে আসা। চোখে জ্বলজ্বলে উজ্জ্বল দৃষ্টি, মুখে "এবার দেখে নেবো" টাইপের মিটিমিটি হাসি। শত হলেও এখন খালি হাতে আর যুদ্ধের ময়দানে অবতীর্ন হতে হবে না। অতএব, "বিনা যুদ্ধে নাহি দেব বিনীদ্র রজনী" চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে ঘুমের প্রস্তুতি নিতে লাগলাম।

রাতের আড্ডা হৈচৈ শেষে যথা সময়ে যে যার বিছানায় অধীষ্ট হলাম। আমি বাকি দু'জনের দিকে মুচকি হাসি বর্ষন করতে করতে বিজয়ীর ভঙ্গিতে ব্যাগ থেকে বসের দেয়া প্যাকেটটা বের করলাম। অতংপর প্যাকেট থেকে কানে দেয়ার দু'টো ইয়ার প্লাক বের করে দুই কানে ঠেসে দু'জনের ফ্যালফ্যালে দৃষ্টির সামনে আয়েশী ভঙ্গিতে পাশ ফিরে চোখ বুজলাম। এবার যতো খুশী নাসিকা সঙ্গীত চর্চা করো সারা রাত। কুছ পরোয়া নেহি!


এই কাহিনীর পর বেশ অনেক দিন পার হয়ে গেছে। তদ্দিনে নাসিকা রন্ধ্রের বেতাল গর্জনের মধ্যেও আধুনিক স্টাইলের এক বিশেষ তাল-লয়-সুর আবিস্কার করে ফেলেছে আমার উর্বর মস্তিষ্ক। অতএব কানে তুলো না দিয়েই সেই আধুনিক ব্যঞ্জনার তালে তালে বেশ আয়েশে ঘুমানোয় অভ্যস্ত তখন আমি। বরং কোনদিন যথাসময়ে নাসিকা গর্জনে রুম মাতোয়ারা না হলেই যেন ঘুমের ব্যঘাত ঘটতো আমার।

তো সেই সময় বাংলাদেশ থেকে দু'জন মাঝবয়েসী মেহমান এসে হাজির হলেন আমাদের বাসায়। বাসার মালিক তাদের জন্য আগের থেকেই আলাদা এক রুম ঠিক করে রেখেছিলেন। কিন্তু মাঝরাতের দিকে একজন আমাদের রুমে এসে হাজির। বললেন আমরা যদি কিছু মনে না করি, তাহলে তিনি বাকী রাতটা আমাদের রুমের সোফায় ঘুমাতে চান। আমরা খুশী মনেই মেহমানকে সোফা ছেড়ে দিয়ে আবার নিদ্রাদেবীর আরাধনায় নিমগ্ন হয়ে গেলাম। তবে দেবী মনে হয় তখন আর ততোটা প্রসন্ন ছিলেন না। তাই একটু পরেই পিলে চমকানো ভঙ্গিতে আমার দেহ শুন্যে একটা লাফ দিয়ে বিছানায় ধপ্পাস করে পড়লো। অদ্ভুত অজানা এক আতঙ্ক নিয়ে ঘুম ভেঙ্গে বুঝার চেষ্টা করতে লাগলাম কি হচ্ছে রুমে। কিন্তু মস্তিষ্ক সচল হবার আগেই প্রকম্পমান ভয়াল গর্জনে আত্মারাম প্রায় খাঁচা ছাড়ি ছাড়ি করেও কোনমতে আবার দেহধামে ধাতস্থ হবার প্রয়াস পেলো। সুন্দরবনের বাঘের গর্জনকেও হার মানানো গর্জনে ততোক্ষণে আমাদের রুম বেশ মাতোয়ারা। ভয়াল সেই গর্জনের তালে তালে রুমের সব আসবাবপত্রও বেশ কেঁপে কেঁপে উঠছে। সেই সাথে থেকে থেকে কেঁপে উঠছে আমার প্রায় অবশ হয়ে আসা দেহখানি। খরখরে ঘরঘরে গর্জনে বারংবার শিরশিরে এক অনুভূতির ঢেউ খেলে যাচ্ছে ছেঁড়ে-দে-মা-কেঁদে-বাঁচি মনে। এবং এই আতঙ্ক নিয়েই এক সময় আবিস্কার করলাম যে নতুন জ্বালাময়ী বিপদটির উৎস আমাদের সোফায় ধরাশায়ী নধরকান্তি মেহমানপ্রতীমের উন্নত নাসিকাখানি।

আমার এতোদিনের অভিজ্ঞ নাসিকাগর্জন পরাস্তকারী কর্ণদ্বয়কেও হার মানাতে পারে, এমন নাসিকা গর্জনের অভিজ্ঞতা অর্জন করতে করতে আমি আবেগে বেশ বিহবল হয়ে পড়লাম। বাঘের উপরেও তাহলে সত্যিই ঘোগ বলেও কিছু থাকে বটে! তবে শুধু আমিই না, কিছুক্ষনের মধ্যেই আবিস্কার করলাম যে ঘোগের গর্জনে স্বয়ং বাঘ পর্যন্ত পরাস্ত! পাশের বিছানা থেকে ফিসফিসে কাতর কন্ঠ আমাকে শুধালো, "পল্লব ভাই, আপনার কানে দেয়ার তুলো কি এখনও কিছু বাকি আছে?" আহারে, বেচারা! একই রকম কাতর কন্ঠে আমিও ফিসফিসিয়ে বললাম, "নেই। আপাতত আমার মতোই কানে দুই আঙ্গুল দিয়ে ঘুমানোর চেষ্টা করে দেখো।"

কবে কোন কবি যেন বলেছিলেন সুদীর্ঘ রজনীরও একসময় সমাপ্তি ঘটে। আমাদের বিনীদ্র রজনীরও তাই এক সময় সমাপ্তি হলো। ভোরের আলোর সাথে সাথে ঘোগের গর্জন বাঘের গর্জন হয়ে শেষে বেড়ালের মিউ মিউ হতে হতে এক সময় মিইয়ে গেলো। লাল লাল চোখ নিয়ে উসকু খুসকো চুল এবং দিশেহারা চেহারার আমরাও এক সময় হাফ ছেড়ে বাঁচলাম। এতক্ষণের টর্চার সহ্য করে শরীরও এবার হাল ছেড়ে দিলো। অতএব আবারো বিছানায় ধপ্পাস্। আতঙ্কে নয়, এবার আরামে দু'চোখ বুঁজলাম।

বেশ বেলা করে বিছানা ছেড়ে কিচেনে গিয়ে হাজির হলাম পেটপূজা করতে। সেখানে আমাদের রাতের অতিথিও বিদ্যমান। ওঁনাকে রাতে আমাদের রুমে থাকতে দেয়ায় বারবার বিনয়ীভাবে ধন্যবাদ জানাতে লাগলেন। বললেন, "মাঝরাতে আপনাদের এভাবে ডেকে তুলার জন্য আমি খুবই দুঃখিত। কিন্তু কি করবো বলুন, আমার সঙ্গীটি এমন কঠিন নাক ডাকেন যে ঘুমাতে না পেরে বাধ্য হয়ে আপনাদের রুমে গিয়ে হাজির হয়েছি।"

আমি কিছুক্ষন হা করে মেহমানের দিকে তাকিয়ে থাকলাম। ঘোগের উপরেও তাহলে আরও কিছু থাকতে পারে! ভাগ্যিস ইনার বদলে দ্বিতীয় সেই মেহমানটি রাতে আমাদের রুমে এসে হাজির হননি!